‘মাই ভয়েস থ্রু আর্ট’ শীর্ষক তিন দিবসীয় প্রদর্শনী সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারে।
২৩ জুলাই কলকাতার গোলপার্কে রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচার-এর দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল ‘মাই ভয়েস থ্রু আর্ট’ প্রদর্শনীর জন্য।
চারজন বিশেষভাবে সক্ষম শিল্পীর সৃজনশীলতা, কল্পনা ও আত্মপ্রকাশের উদযাপনই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সেরিব্রাল পালসি (IICP) এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের INUTI-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের বিস্তৃত পরিসরের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছিল এখানে।
চার শিল্পীর প্রতিজনেরই নিজস্ব সৃজনশীল কণ্ঠ, নিজস্ব শৈলী, ভাবনা তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছিল ।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন IICP-এর চেয়ারপার্সন রাখি সরকার, সুইডেনের অনারারি কনসুলেট অঞ্জুমিত নোবিস এবং গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারের চেয়ারম্যান ও সম্পাদক স্বামী সুপর্ণানন্দজি।
প্রদর্শনীতে এমন একাধিক শিল্পকর্ম তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে শিল্পীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, কল্পনা এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে, কোনও ধরনের শারীরিক বা অন্যান্য সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে শিল্পের ভূমিকার বিষয়টিও এই প্রদর্শনীতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
২৩ জুলাই গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সক্ষম শিল্পী দীপ দোলুই, পুতুল বিশ্বাস এবং অনিকেত মুখোপাধ্যায় তাঁদের শিল্পকর্ম নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে শিল্পকর্মের পাশাপাশি হাতে তৈরি মুখোশ, বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং আদিবাসী শিল্পকর্মও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রয়াত শিল্পী বর্ষা ভট্টাচার্যের শিল্পকর্মের মরণোত্তর প্রদর্শনী। তাঁর সৃষ্টিগুলিও দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
‘মাই ভয়েস থ্রু আর্ট’ প্রদর্শনীটি ২৫ জুলাই পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা ছিল, যাকে ঘিরে দর্শক এবং শিল্পীদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। রামকৃষ্ণ মিশন ও IICP এর সহায়তা ও এই প্রদর্শনীর সাফল্যের বড় কারণ। কলকাতার অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির পরিচায়ক হিসেবেও এই প্রদর্শনী প্রশংসার দাবী রাখে।


