স্বপ্ন যখন অসম্ভব মনে হয়, অথচ পরিবারের বেঁচে থাকা নির্ভর করছে আপনার ওপর—তখন কী করবেন?
১৯ বছরের শুভম শবরের উত্তর ছিল সহজ: কাজ করব, পড়ব, আর কখনও হাল ছাড়ব না।
দিনে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় ঝাঁট দিতেন, রাতে নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতেন আর উপার্জিত সমস্ত টাকা পাঠাতেন বাড়ি। মাসে মাত্র ১৫ হাজার টাকা আয় করেও ওড়িশার মুদুলিদিয়া গ্রামের দরিদ্র বাবা-মায়ের আশাআকাঙ্ক্ষা পূরণের স্বপ্ন বয়ে চলেছেন তিনি।
“আমি জানতাম না উচ্চশিক্ষার খরচ চালাতে পারব কি না। তবে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভেবেছিলাম অন্তত পরিবারের জন্য কিছু আয় করতে পারব”, ইটিভি ভারতকে বলেন শুভম।
ছোটবেলায় পুলিশের চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু এক শিক্ষকের পরামর্শে জীবন বদলে যায়। শুভম বলেন, “স্যার বলেছিলেন মেডিক্যাল সায়েন্সের জন্য চেষ্টা করতে। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিই ডাক্তার হবার।”
অবশেষে সেই কঠোর পরিশ্রম ফল দিয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে ৪,০০০তম স্থান অর্জন করে বেহরামপুরের এমকেসিজি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন শুভম।
সারাজীবন এক চিলতে জমিতে দিনরাত খেটে চলা বাবা-মায়ের আনন্দ ,আশা ভরসা একসাথে মিশে আনন্দাশ্রুতে পরিণত আজ। শুভমের মা রঙ্গি শবর বলেন, “আমরা জানতাম আর বিশ্বাস করতাম, পড়াশোনাই ওর জীবন বদলাবে, আর আমাদেরও।”
তবে এখন দায়িত্ব আরও বড়। শুভমের কথায়, “কোর্স শেষ হলে মানুষের সেবা করব, বাবা-মাকেও ভাল রাখব। পথ কঠিন, কিন্তু আমি স্পষ্ট জানি, আমি জিতবই।”


