Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

সাহিত্যিক ও পানওয়ালা, দুই পিন্টু পোহানের গল্প লিখছে কলকাতার দক্ষিণ-পশ্চিম শহরতলি

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বেহালা অঞ্চল। রাজা রামমোহন রায় রোডের ওপর বাস অটো, রিকশার হর্নের শব্দ আর বাজারের মাছ, সবজি আর টাটকা পানের গন্ধের মাঝে ছোট্ট একটা সাধারণ পানের দোকান, সেই দোকানের মাচায় বাস এক সাধারণ মানুষ আর তার অসাধারণ জীবন কাহিনির।

৪৭ বছরের পিন্টু পোহান, শুধুমাত্র একজন পানওয়ালাই নন, তিনি একজন বাঙালি লেখক যিনি এই পানের দোকানে বসেই লিখে ফেলেছেন ১২ টি বাঙলা বই।

অদুরের মদনমোহন তলায় এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা পিন্টু পোহান, ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। ছাত্র বেলায় তার লেখাও প্রকাশিত হত স্কুলের পত্রিকা সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকায় কিন্তু দশ ক্লাসের পরীক্ষার পর পড়াশোনা ছাড়তে হয় তাকে। তারপর পরিবারের প্রয়োজন সামলাতে কারখানার কাজ, হেল্পারির কাজ সহ নানা কাজ করতে হয়েছে পিন্টুকে। বহু বছর পর নিজের চেষ্টায় পড়াশোনার পথে ফিরে ২০১৫ সালে বাংলায় এম এ পাশ করেন তিনি।

জীবনের এত কোলাহল আর বিশৃঙ্খলার মাঝেই তার লেখা বিভিন্ন গল্প পৌঁছে গেছে দেশ, আনন্দমেলা, সানন্দার মত প্রথম সারির বাংলা ম্যাগাজিনের পাতায়। ছাপা হয়েছে বই হিসেবে। তার লেখা কিছু উল্লেখযোগ্য বই হল, পারুল মাসির ছাগল ছানা, ঝিনুক কুমার, ঠাকুরদার আশ্চর্য গল্প ইত্যাদি যা শিশু সাহিত্য হয়েও বাচ্চা বুড়ো সবার নজর কেড়েছে।

সকাল ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান চালানোর মাঝেও উনি কম্পিউটার বেসিকস, ইংরাজি ও হিন্দি ভাষা শিখেছেন নিজ উদ্যোগে।

দীর্ঘ কাজের সময়, দারিদ্র্য, লাম্বার ও সারভাইকাল স্পন্ডালাইটিস-এর মত রোগের সাথে লড়াই চালিয়ে আজও প্রতিদিন পান বিক্রির পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন লেখার কাজ।

তার কাজ আজ তাকে বিভিন্ন সাহিত্য মঞ্চের সমাদর এনে দিয়েছে। তার বই প্রকাশিত হয় নামি প্রকাশনা থেকে। অনুবাদ হয় বিভিন্ন ভাষায়, সমাদৃত হয় ইউক্রেন, সুইডেনের মতো দেশে।

পিন্টুর কথায়, “দারিদ্র কোনও অপরাধ নয়, আসল অপরাধ হল জীবন সংগ্রাম আর নিজের স্বপ্নের রাস্তা ত্যাগ করা।” পিন্টু পোহানের জীবন কাহিনি একাধারে এক লেখকের, এক সংগ্রামীর আর এক স্বপ্নের ফেরিওলার…. যারা গড়ে তোলেন এই শহরের ইতিকথা।