Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

এই গরমে ভূ-স্বর্গ মিস করছেন? ঘুরে আসুন উত্তরাখণ্ডের লোহাঘাট থেকে মৈত্রী মজুমদার

উত্তরাখণ্ড নাম উচ্চারণের সাথে সাথে চোখের সামনে ভেসে ওঠে বরফে ঢাকা হিমালয়ের চূড়া, পাইন দেবদারুর সবুজে ঢাকা আদিগন্ত পাহাড় , জঙ্গল, নদীর রূপ….আর মনে আসে অনেক অনেক জনপ্রিয় হিল স্টেশনের নাম। শিমলা, নৈনিতাল ইত্যাদি প্রভৃতি….

সেখানে আবার গরমের সময়ে ট্যুরিস্টের আনাগোনা শহরের ভিড়কেও হার মানায়।

কিন্তু আপনার পছন্দ তো শান্ত নিরিবিলি অনাবিল প্রকৃতির মাঝে কয়েকটা দিন। শহরের যানজট থেকে, টক্সিক পরিবেশ থেকে, সর্বোপরি পোড়া গরম থেকে দূরে এক টুকরো ভূ-স্বর্গ….

ঠিক আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে কুমায়ুনি হিমালয়ের কোলে থাকা লোহাঘাট।

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের চম্পাবত জেলা সদর  থেকে ১৪ কিলোমিটার আর পিথোরাগড় থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে লোহাবতী নদীর ধারে শান্ত স্নিগ্ধ সবুজ এক পাহাড়ি জনপদ।

কী আছে এখানে?

প্রধানত আদিগন্ত সবুজ আর অখণ্ড নীরবতার মাঝে পাখিদের কলকাকলি আর ঝিঁ ঝিঁর অক্লান্ত অনুরণনে গা, মাথা সব নিমগ্ন করে নেওয়ার অসীম সুযোগ।

কী কী দেখবেন?

জনমানবের উপস্থিতি ভিড়ভাড়াক্কা কম থাকলেও দেখার জায়গা কম নেই এই লোহাঘাট ও তার আশপাশের এলাকায়।

মূলতঃ অষ্টম শতক থেকেই প্রাচীন ও পৌরাণিক এই লোহাঘাট শাসককুলের নজর কাড়ে, শুরু হয় উন্নয়ন, বারো শতকে চাঁদ বংশের রাজারা বানিয়েছিলেন বনাসুর দুর্গ।

তারপর ব্রিটিশদের হাত ধরে সামার ক্যাপিটাল হিসেবে নতুন ভাবে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ধাঁচে গড়ে ওঠে এই জায়গা। সেই সব ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে পৌঁছে যান আব্বট মাউন্টে। দেখে নিন আব্বট চার্চ।

ট্রেক করার জন্য চলে যেতে পারেন বনাসুর ফোর্টে।

লোহা ঘাট থেকে এক-দেড় ঘণ্টার ট্রেকিং আপনাকে পৌঁছে দেবে পাহাড়ের ওপর বনাসুর দুর্গের ভগ্নাবশেষের কাছে। সেখান থেকে নীচের লোহা ঘাট আর দূরে চম্পাবত শহরের অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।

এখানে আসলে বাঙালি হিসেবে যেটা কখনওই মিস করবেন না তা হল লোহাঘাট থেকে অনতিদূরে মায়াবতীর অদ্বৈত আশ্রম। এটি একটি যোগসাধনার আশ্রম। স্বামী বিবেকানন্দ পায়ে হেঁটে ভারত ভ্রমণের সময়ে বেশ অনেকটা সময় কাটিয়ে ছিলেন এখানে। এমনকি রামকৃষ্ণ মিশনের প্রবুদ্ধ ভারত পত্রিকার সূত্রপাতও এখানে। এখনো সেই ছাপাখানা চালু আছে।

এরপর আপনি সময় কাটাতে চলে যান কোলি ঢেক লেকে। মানব নির্মিত এই কৃত্রিম লেকটি বছর দুয়েক হল চালু হয়েছে।

প্রকৃতির কোলে এক অসাধারণ নৌকা ভ্রমণ আপনাকে কেরালার ব্যাকওয়াটার বা ডাল লেকের শিকারা ভ্রমণের থেকে কম আনন্দ দেবে না। পাশাপাশি ঘুরে নিন অর্গানিক চা-বাগান।

এসব ছাড়াও চম্পাবতে গোলু দেবতা মন্দির,  মানেশ্বর মন্দির ইত্যাদি আরও অনেক কিছু দেখে নিতে পারেন।

ছুটির দৈর্ঘ্য লম্বা হলে রানিখেত, কৌশানী ইত্যাদি জনপ্রিয় স্থানেও পৌঁছে যেতে পারেন গাড়ি ভাড়া করে।

কোথায় থাকবেন ?

অন্যান্য পাহাড়ি শহরের থেকে থাকা খাওয়া অনেকটাই সস্তা এখানে। পেয়ে যাবেন কম দামি হোটেল, হোমস্টে সহ সরকারি অতিথিশালা।

খাবারের মধ্যে অবশ্যই স্থানীয় কুমায়ুনি খাবার চেখে দেখবেন।

কীভাবে যাবেন?

দিল্লি থেকে গাড়ি নিয়ে হালদোয়ানি হয়ে পৌঁছে যেতে পারেন চম্পাবত।

কাছাকাছি রেল স্টেশন ৮৫ কিমি দূরের টনকপুর। যা দিল্লি, আগ্রা, কলকাতা সহ বড়ো শহরগুলোর সাথে যুক্ত।

কাছাকাছি বিমানবন্দর ১৬০ কিমি দূরের পন্থনগর। সেখান থেকে গাড়ি করে পৌঁছে যান লোহাঘাট।

বর্ষার সময় ছাড়া বছরের যেকোনো সময় লোহাঘাটের আবহাওয়া অত্যন্ত সুখকর. শীতকালে বরফও পেতে পারেন এখানে।

এছাড়া হোলি রঙ মহোৎসব, দেবীধর মেলা, সর্বোপরি এলাকার সর্বোৎকৃষ্ট রামলীলা উৎসবের জন্য বিখ্যাত এই স্থান।

তাহলে আর দেরি কেন? ব্যাগ গুছিয়ে নিন।