উৎসবের মরশুম এসে গেল কিন্তু কাজের শেষ নেই। অথচ আপনার মনমেজাজ ঠিক রাখার জন্য ভ্রমণ খুব জরুরি।
ক্রোয়েশিয়া, স্পেন, স্যেশলস্ এর মত ট্যুরিজম প্রধান দেশগুলো ভারতীয়দের জন্য ডিজিটাল নোম্যাডস ভিসা দিচ্ছে তাও দশ হাজারের কমে, লোভনীয় অফার বটে।
কিন্তু আপনার আবার দেশের বাইরে যাবার যো নেই…..
তাহলে উপায়???
কোনও চিন্তা নেই….. কো-ওয়ার্কিং হোস্টেল, ফাইভ-জি কানেকশন, আর নয়নাভিরাম দৃশ্য নিয়ে ভারতের দর্শনীয় স্হানগুলি মোটেই পিছিয়ে নেই।
ভারতে ইতিমধ্যেই এমন এমন জায়গা রয়েছে যেখানে চায়ের মতোই অবাধে ওয়াই-ফাই চলে এবং প্রতিটি লগ-ইনের সাথে সাথেই চোখের সামনে আসে এক একটি স্বপ্নীল দৃশ্য।
হিমাচলের মেঘে ঢাকা ক্যাফে থেকে শুরু করে পুদুচেরির সমুদ্র-বাতাসের কো-ওয়ার্কিং পর্যন্ত, এই ৭টি গন্তব্য প্রমাণ করে যে ডিজিটাল যাযাবরের স্বপ্নের জীবনযাপনের জন্য আপনাকে দেশ ছেড়ে যেতে হবে না।

১. ইয়াক্তেন, সিকিম
ভারতের প্রথম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরী ডিজিটাল-নোম্যাড দের গ্রাম। পূর্ব সিকিমের এই নিরিবিলি স্থান কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্যের সাথে কো-ওয়ার্কিং কর্মক্ষেত্র ও ৫০ এমবিপিএস-এর ওয়াই-ফাই কে দারুণ ভাবে মিলিয়ে দিয়েছে। সারাদিন কাজ করুন এই পরিবেশে।
সপ্তাহান্তে ঘুরে বেড়ান আশেপাশের প্রাচীন মনাস্ট্রির আঙিনায়।
চেখে দেখুন সিকিমিস থালি। এখানে আসার আদর্শ সময় মার্চ থেকে জুন। কাছাকাছি রেলওয়ে স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি।

২. কালগা ও পুলগা- হিমাচল প্রদেশ
হিমাচলের পার্বতী ভ্যালির অন্তর্গত দুটি শান্ত যমজ জনপদ। দূরবর্তী এলাকায় থেকে কাজ করতে চাওয়া মানুষের কাছে খুবই প্রিয় এই জায়গাগুলো। কোনও নির্জন পাহাড়ি ক্যাফেতে বসে কাজ করুন। জুম মিটিং এর জন্য ব্যবহার করুণ পাইন জঙ্গলের ব্যাকড্রপ। সপ্তাহান্তে জঙ্গল ভ্রমণ করুন কিংবা বন-ফায়ার সহযোগে আড্ডা মারুন। অথবা সময় কাটান হ্যামক এ শুয়ে। চেখে দেখুন হিমাচলি সিড্ডু ভাপা আর ঘি।
কাছাকাছি এয়ারপোর্ট ভুন্টার আর ভ্রমণের ভাল সময় এপ্রিল থেকে জুন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর।
৩. আরাকুভ্যালি- অন্ধ্রপ্রদেশ
যদি আপনার কাজের ছন্দ তিরে তিরে ঝর্ণা আর উচ্ছ্বল নদীর বহমান ধারার সাথে মিলে যায় আর মন ভরে ওঠে কুয়াশার চাদরে ঢাকা বনাঞ্চল দেখে তাহলে সবুজ পাহাড়ের কোলে আদিবাসীদের গ্রাম ঘেরা আরাকু ভ্যালি আপনার গন্তব্য হওয়া উচিত।
কাজের ফাঁকে আরাকু কফিতে চুমুক আর খাওয়ার পাতে ব্যাম্বু-চিকেন আপনার রসনার তৃপ্ত করবেই।
সপ্তাহান্তে পদব্রজে পৌঁছে যান কোনও এক ঝর্ণাতলার নির্জনে, অথবা ঘুরে দেখুন ট্রাইবাল মিউজিয়াম।
কাছাকাছি স্টেশন-আরাকু আর বেড়ানোর সঠিক সময় সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।

৪. আগুম্বে-কর্ণাটক
ওয়ার্কিং হোস্টেল বা হোমস্টেকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখানের রেইনফরেস্ট কখন যেন হয়ে উঠবে আপনার ওয়ার্কিং কিউবিকল।
সপ্তাহান্ত কেটে যাবে গ্লোয়িং ফাঙ্গি আর দুষ্প্রাপ্য ব্যাঙ খোঁজার গাইডেড ট্যুর-এ।
চেখে দেখুন আক্কি রুটি আর কোলি সাড়ু।
ভ্রমণের সেরা সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। কাছাকাছি পাবেন উদুপি রেলওয়ে স্টেশন।

৫. পুষ্কর- রাজস্থান
যদি কোনও রাজপ্রাসাদের বারান্দা হয়ে ওঠে আপনার কর্মক্ষেত্র। তাহলে আপনাকে আসতেই হবে রাজস্থানের পুষ্করে। যেখানে হাভেলির বারান্দার থেকে দেখা যাবে আরাবল্লি পর্বত আর পুষ্কর হ্রদ। যেখানে অভাবনীয় ওয়াই-ফাই স্পিড আর অনির্বচনীয় সূর্যাস্ত একই তালে চলে।
সপ্তাহান্ত কেটে যাবে স্থানীয় মন্দির আর বাজারগুলোতে ঘুরে ঘুরে।
রসনা তৃপ্ত হবে কচুরি আর ডাল বাটি চুরমায়।
কাছাকাছি স্টেশন আজমের, পনের কিলোমিটারের দূরত্বে। যাওয়ার উপযুক্ত সময় জুলাই থেকে মার্চ।

৬. ভারকালা-কেরালা
পাহাড়ের খাড়াই বরাবর থাকা কটেজ, সামুদ্রিক হাওয়া আর ভরসাযোগ্য ওয়াই-ফাই, কেরালার এই সমুদ্রতীরকে স্বপ্নের কর্মক্ষেত্রতে পরিণত করবেই।
সপ্তাহান্ত কাটবে ঢেউয়ের মাথায় মাথায় সার্ফিং করে।
চায়ের সাথে বিখ্যাত কলার চিপস্ আর খাওয়ার পাতে আপ্পাম ও মিন কারি স্বাদকোরককে উত্তেজিত করতে যথেষ্ট।
অক্টোবর থেকে মার্চ এর মধ্যে যে কোনও সময় বেছে চলে আসুন ভারকালা শিবগিরি স্টেশনে।

৭. পুদুচেরি- তামিল নাড়ু
ছায়াঘেরা বুলেভার্ড, আর প্রমেনাড-এর ধার বরাবর সারবদ্ধ রৌদ্রজ্জ্বল ক্যাফেতে বসে কাজ করার স্বপ্ন সব যাযাবরেরই থাকে একথা সর্বজনবিদিত।
অরোভিল-এ যোগা করা, সমুদ্রের পার ধরে হেঁটে বা সাইকেল চলিয়ে ঘুরে বেড়ানো, অবসরে সূর্যাস্তের আলোয় অবগাহন ভরিয়ে তুলবে আপনার সপ্তাহান্ত।
চেখে দেখবেন কারি-দোসাই অথবা তামিল-ফ্রেঞ্চ ফিউশন ফুড।
এখানে আসার ভাল সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। বছরের বাকি সময় একটু গরম বেশি হলেও একই রকম আকর্ষণীয় এই স্হান। কাছাকাছি রেলওয়ে স্টেশন পুদুচেরি।
তাহলে আর দেরি কেন ?? আপনি যদি হন লেখক, কোডার, কনসালটেন্ট বা ক্রিয়েটর, যার কাজের জন্য শুধুমাত্র একটি ল্যাপটপ আর ওয়াই-ফাই কানেকশন একমাত্র প্রয়োজন তাহলে এই যাযাবরী আনন্দের জীবন আপনার জন্যই অপেক্ষমাণ ।


