বৈশাখ মাস অসম সহ পুরো উত্তর পূর্ব ভারতে বসন্তের বার্তা বাহক। বসন্তে তাই এখানকার মানুষেরা মেতে ওঠেন নাচে গানে… গোটা বৈশাখ মাস জুড়ে এখানে পালিত হয় অসমের প্রধান উৎসব রঙালি বিহু…..
অসম বা নর্থ ইস্ট যেতে হলে যে জায়গা না পেরোলেই নয় তা হোল অসমের রাজধানী গুয়াহাটি। আর গুয়াহাটিতেও ভ্রমণ বিলাসীদের দেখার জায়গা নেহাত কম নেই। সাধারণত যে সব জায়গার সন্ধান সবার জানা, সেগুলো বাদে যে সব জায়গার খবর কম মানুষ জানেন সেরকম কিছু জানাই আজ।

আসামের প্রাণ হল ব্রহ্মপুত্র নদ(নদী নয় কিন্তু), যাঁর দয়ায় অসম আদিগন্ত উর্বর আর সবুজ হয়ে থাকে বছরভর। আবার ভরা বর্ষায় যার দুকূল ছাপানো উল্লাস অসমের হাজার হাজার মানুষের জীবনে অসীম দুর্দশা ডেকে আনে।
তাই বোধ হয় ব্রহ্মপুত্রকে শান্ত রাখার দায় অহমিয়াদের জীবনের এক প্রবল দায়। আর সেই প্রাণের তাগিদ থেকেই উঠে আসে পূজার্চনা আর মন্দির স্থাপনার তাগিদ। তাই ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে গোটা অসমম জুড়ে জায়গায় জায়গায় আছে নানা দেবতার মন্দির। তবে আজ যার কথা বলবো সেটা শহরের কাছেই তবে পারে নয়, নদের এক্কেবারে মাঝে থাকা উমানন্দ মন্দির।

গুয়াহাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র কাছারি ঘাট বা পান বাজার থেকে আপনি ফেরি পেয়ে যাবেন উমানন্দ মন্দিরে যাওয়ার।
সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্রের ওপর দিয়ে চালু হয়েছে সরকারি রোপ-ওয়ে সার্ভিস। রোপ-ওয়ে দিয়ে অপর প্রান্তে গিয়েও ফেরি নিতে পারেন। যাতায়াত করার সময় ওপর থেকে দেখতে পাবেন উমানন্দ …..
উমানন্দ ব্রহ্মপুত্রের মাঝে থাকা এক টুকরো নদী-দ্বীপ। ফেরি থেকে নেমেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে যেতে হবে মন্দিরে। অনেকগুলি সিঁড়ি আছে। সেখানে আছে শিবের মন্দির। বেশ পরিচ্ছন্ন মন্দির। আর সচরাচর ভিড় খুব বেশি হয় না। নির্বিঘ্নে পুজো দিন এখানে। তবে এখানে ‘গোল্ডেন লেঙ্গুর’ প্রজাতির বানর পাওয়া যায় অনেক। একটু সাবধানতা নেওয়া ভালো।

ফেরি নেওয়ার সময় দরদস্তুর করে নেবেন। এই দ্বীপে থাকা শিবের মন্দিরটি সকাল ১১ থেকে বিকেল ৪ টে অবধি খোলা থাকে। তারপর আবার ফেরিতেই ফিরে আসুন গুয়াহাটি। খালি বলে রাখা ভালো বর্ষার সময় মন্দিরের তলদেশ সহ দ্বীপের বাকি অংশ জলের তলায় থাকে তাই সেই সময়, বছরের বেশ কয়েকমাস মন্দির বন্ধ থাকে।
উমানন্দ হল পৃথিবীর সবথেকে ছোট মানুষ বসবাসকারী নদী দ্বীপ।
তাহলে, ঘরের বেশ কাছেই পৃথিবী বিখ্যাত এক জায়গার সন্ধান পেলেন তো। প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি, শুধুমাত্র ক্ষুদ্রতম নয় পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপটির অধিকারীও কিন্তু এই ব্রহ্মপুত্রই। আর তার নাম হল মাজুলি, যা অসমের জোরহাট জেলায় পড়ে। এর কথা অন্য কোনও সময় আলোচনা করা যাবে।
মৈত্রী মজুমদার.


