আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস(৪ ফেব্রুয়ারি) পালন করতে ‘লাইফ বিয়ন্ড ক্যান্সার’ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৫টা থেকে রবীন্দ্র সদন-এ একটি বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
ষষ্ঠ বার্ষিক তহবিল সংগ্রহের এই কনসার্ট ভরে উঠেছিল হাসি, সুর আর নিখাদ আনন্দে। এই ‘লাইফ বিয়ন্ড ক্যান্সার’ প্রকল্পটি রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৯১-এর উদ্যোগ।
সেদিনের সন্ধ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিল সাহসী ক্যান্সারযোদ্ধা শিশুদের মঞ্চে উঠে আত্মবিশ্বাসী, নির্ভীক ও উচ্ছ্বাসভরা পরিবেশনা। তাদের আত্মবিশ্বাস, প্রতিভা ও অদম্য সাহস উপস্থিত প্রত্যেককে অনুপ্রাণিত করেছে। অডিটোরিয়ামের উচ্ছ্বাস ছিল সত্যিই অভাবনীয়! সম্মানিত অতিথি ও শিল্পীদের উপস্থিতি সন্ধ্যাকে আরও বিশেষ করে তোলে। জাতীয় পুরস্কার জয়ী গায়িকা ইমন চক্রবর্তী-র মধুর কণ্ঠ সারা হলজুড়ে উষ্ণতা ও আবেগ ছড়িয়ে দেয়।
এই কর্মকাণ্ডের মুখপাত্র, বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বিখ্যাত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও তাঁর নৃত্যদলের স্নিগ্ধ উপস্থিতি এই সন্ধ্যায় যোগ করে অনন্য শৈলী ও জাদুময়তা।
উস্তাদ রশিদ খান-এর পুত্র এবং সমকালীন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তরুণ শিল্পী আরমান খান তাঁর সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে সেই উচ্ছ্বাসকে শিখরে পৌঁছে দেন, আর তবলিয়া পন্ডিত প্রদ্যুত মুখার্জি-র বাদনের তালে-তালে দর্শকরা উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
‘লাইফ বিয়ন্ড ক্যান্সার’ একটি অলাভজনক উদ্যোগ, যা শিশু ক্যান্সার রোগীদের সুস্থতা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মহান কাজে নিবেদিত। তাদের মূলমন্ত্র— “কোনও শিশুই ক্যান্সারে মারা যাবে না”। এখনও পর্যন্ত তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯০০ জন শিশুকে সহায়তা করেছে।
এর আগে এই অনুষ্ঠানের ঘোষণা করতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে, এই সংস্থার মুখ(cause ambassador) ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “আমরা কেবল চেষ্টা করতে পারি ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচানোর। আমাদের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে আমরা এই মারণ রোগে আক্রান্ত শিশুদের জীবন রক্ষা করতে পারি। আমরা তাই কখনও এই বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে ভুলি না।”
অনুষ্ঠানস্থলেও তিনি পদ্মশ্রী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এই মহৎ উদ্যোগে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র । এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল একাধারে ক্যান্সারজয়ী শিশুদের বিশেষ নৃত্য পরিবেশনা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাগ্রহ উপস্থিতি ও অবদান সমগ্র পরিবেশকে এক অবিস্মরণীয় সন্ধ্যায় পরিণত করে।
অনুষ্ঠানের সাফল্যের পর আয়োজকরা সকল দাতা— রোটারি ক্লাবসমূহ, কর্পোরেট সংস্থা ও ব্যক্তিগত অনুদানদাতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, যাঁদের সহায়তায় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইরত শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে।


