১০ বছরের এক গ্রাম্য বালক থেকে পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত মানুষ—হ্যালি ওয়ার তাঁর গোটা জীবন কাটিয়েছেন এমন সব জীবন্ত সেতু গড়ে তুলতে তুলতে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নদীর বান আর তুমুল ঝড় পেরিয়ে নিরাপদে পারে নিয়ে যায়।
মেঘালয়ের লিভিং রুট ব্রিজ, যা বছরের পর বছর ধরে শত শত পর্যটকদের আকৃষ্ট করে চলেছে, সেই মেঘালয়ের সোহরা (চেরাপুঞ্জি) অঞ্চলের সিয়েজ গ্রামের ৬৯ বছর বয়সি খাসিয়া জনজাতির বাসিন্দা হ্যালি ওয়ারকে জীবন্ত শিকড়ের সেতু নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আজীবন অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।
স্থানীয় ভাষায় ‘জিংকিয়েং জ্রি’ নামে পরিচিত এই অনন্য জীব-প্রকৌশল কাঠামোগুলি খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ী অঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিকশিত হয়েছে।
দুর্গম এলাকাগুলিকে সংযুক্ত করার পাশাপাশি এই জীবন্ত সেতুগুলির বুনন দেশি-বিদেশি পর্যটকদেরও বিস্মিত করে।
পেশায় কৃষক হ্যালি ওয়ার মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই এই সেতু বোনার কাজ শুরু করেন। তাঁর দাদু ল্যাং র্যাপথ্যাপের কাছ থেকেই তিনি এই প্রাচীন শিল্পকলা শেখেন। উমকার নদীর ওপর উমকার জীবন্ত শিকড়ের সেতুটি গড়ে তুলতে তাঁর লেগেছে টানা ৫০ বছর। বর্তমানে তিনি ওই সেতুর একটি ডাবল-ডেকার স্তর সম্প্রসারণের কাজেও যুক্ত রয়েছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হ্যালি ওয়ার বলেন, “এই মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও বিনীত বোধ করছি। উমকারের ওপর জীবন্ত শিকড়ের সেতু গড়ে তোলার মতো শারীরিক সুস্থতা ও সৃজনশীলতা দেওয়ার জন্য ওপরওয়ালার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
পাশাপাশি হ্যালি গাছ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আদিবাসী ঐতিহ্যের একজন অভিভাবক হিসেবে সেটিকে রক্ষা করাই তাঁর জীবনের অন্যতম দায়িত্ব।


