Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

আজীবনের পেশাগত পদ নয়, ইন্দরজিৎ সিং-কে পদ্মশ্রী এনে দিল তাঁর সমাজসেবা

৮৮ বছর বয়সে, যখন অধিকাংশ মানুষ জীবনের গতি কমিয়ে দেন, তখন ইন্দরজিৎ সিং সিধু হাতে তুলে নেন একটি ঝাঁটা। প্রতিদিন ভোর ৬টায়, প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসার—চণ্ডীগড়ের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। নিজের হাতেই কুড়িয়ে নেন রাস্তার আবর্জনা।

এই কাজটি তাঁর পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কেউ তাঁকে বলেন ও নি। তবুও তিনি কাজটি করেন শুধুমাত্র এই কারণে যে, নিজের শহরের মর্যাদা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া তিনি মেনে নিতে পারেননি। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সিধু প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, এই আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনা না হওয়ার কথা জানিয়ে। কিন্তু যখন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন—কথায় নয়, কাজে নেমে পড়বেন।

একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে একদিন একাই শুরু করেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। মানুষ হাসাহাসি করেছে। কেউ কেউ তাঁকে ‘পাগল’ বলেও কটাক্ষ করেছে। তবু তিনি থামেননি। ধীরে ধীরে বদল আসতে শুরু করে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরিবারের সদস্যরাও রাস্তায় নামেন। একক একজন মানুষের বিবেকের ডাক রূপ নেয় একটি সমষ্টিগত আন্দোলনে। চণ্ডীগড়ের ‘সুন্দরী শহর’ যেন তার সবচেয়ে নীরব অথচ সবচেয়ে দৃঢ় এক অভিভাবককে খুঁজে পায়।

“পরিষ্কার করার কাজ লজ্জার কিছু নয়। ক্লিনলিনেস ইজ গডলিনেস,” সহজ ভাষায় বলেন সিধু। ইন্দরজিৎ সিং সিধু ১৯৬৩ সালে পাঞ্জাব পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্সপেক্টর হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৮১ সালে আইপিএস পদে উন্নীত হন। পাঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদের চরম সময়কালে, ১৯৮৬ সালে তিনি অমৃতসরে সিটি এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি চণ্ডীগড়ে ডিআইজি (সিআইডি) হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি সরকারি পরিষেবা থেকে অবসর নেন। তাঁর স্ত্রী দবিন্দর পাল কৌর ২০২৩ সালে প্রয়াত হন। তাঁর পুত্র পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন, আর কন্যা থাকেন মোহালিতে।

গত বছর সেক্টর ৪৯-এ আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় তাঁর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে সারা দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড় ওঠে। এই বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে, তাঁর সারাজীবনের সেবা কাজের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ‘আনসাং হিরোজ’ বিভাগে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে।