একসময় ছিল একটুকরো অনুর্বর জমি। আজ সেখানে গড়ে উঠেছে এমন এক বন, যা কন্যাসন্তানদের রক্ষা করে, সম্মান দেয় এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।
রাজস্থানের রাজসমন্দ জেলার ছোট্ট গ্রাম পিপলান্ত্রিতে নীরব শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল ভারতের অন্যতম সুন্দর সামাজিক বিপ্লব। ২০০৬ সালে নিজের অল্পবয়সি কন্যাকে হারানোর পর, গ্রাম প্রধান শ্যাম সুন্দর পালিওয়াল একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—যা পরবর্তীকালে সবকিছু বদলে দেয়।
গ্রামে যতবার একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হবে, তার সম্মানে ১১১টি করে বৃক্ষ রোপণ করা হবে। ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার্ঘ্য থেকেই শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে পরিণত হয় আশার এক সম্পূর্ণ আলোকবর্তিকায়। আজ পিপলান্ত্রিতে রয়েছে তিন লক্ষেরও বেশি গাছ—আম, শিশু, বট ও অশ্বথ সহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ। একসময়ের শুষ্ক ও অনুর্বর জমি এখন ভালোবেসে পরিচিত ‘নন্দন বন’ বা আনন্দের অরণ্য নামে। এই সবুজ আচ্ছাদন ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনরুজ্জীবিত করেছে, পাখিদের ফিরিয়ে এনেছে এবং গ্রামটিকে দিয়েছে এক নতুন পরিচয়।
তবে এই আন্দোলন শুধু পরিবেশ রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি কন্যাভ্রূণ হত্যার মতো সামাজিক মানসিকতাকেও নীরবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। পিপলান্ত্রিতে কন্যাসন্তানের জন্ম এখন গর্ব, উদযাপন এবং সমষ্টিগত দায়িত্বের প্রতীক।
সমাজ ও সাসটেনেবল উন্নয়নে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, শ্যাম সুন্দর পালিওয়ালকে ২০২১ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।
কন্যা হারানোর শোককে কন্যা সন্তানদের সুরক্ষায় রূপান্তর: ইতিহাস পাল্টালেন শ্যাম সুন্দর


