Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

দারিদ্রের বিরুদ্ধে অসম লড়াই সেনা জওয়ানের: পেশা আর নামের শক্তি এখন তার কাজের প্রতিফলন

একা একজন মানুষ একইসঙ্গে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই যদি করতে পারেন—তবে তার চেহারা দাঁড়ায় শক্তি পাল-এর মত। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান, শক্তি পাল, খাবার, কাপড়, পড়াশোনার সামগ্রী, চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্রদের জন্য নীরবে এই সবকিছুই করে চলেছেন একা হাতে। শক্তি পালের কাছে ক্ষুধা কোনও পরিসংখ্যান নয়। এটি এমন এক শৈশব স্মৃতি, যা কোনও দিন তাকে ছেড়ে যায়নি।
দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া কলকাতার ৩১ বছর বয়সি আসাম রাইফেলসের এই রাইফেলম্যান খুব ভালো করেই জানেন—না খেয়ে ঘুমোতে যাওয়ার যন্ত্রণা কাকে বলে, আর একই ক্ষুধা নিয়ে ভোরবেলা জেগে ওঠার কষ্ট কতটা গভীর। সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম গায়ে তোলার পরেও তার শৈশবের সেই ক্ষুধা তাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে।
পাঁচ বছর আগে, ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে শক্তির চোখে পড়ে রাস্তায় পড়ে থাকা এক বৃদ্ধ।
ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় এতটাই দুর্বল যে উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও নেই। সেদিন সেই দৃশ্য উপেক্ষা করে চলে যেতে পারেননি তিনি।

নিজের জমানো টাকা আর নিজের হাতের রান্না করা খাবার দিয়েই তিনি শুরু করেন, মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে খাবার বিতরন—যার নাম হয়ে ওঠে ‘১ টাকার জনতা কিচেন’। এই এক টাকার মূল্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিজস্ব আর্থিক লাভের বদলে মানুষের সম্মান ও আত্মমর্যাদা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আজ তাঁর উদ্যোগে শিলিগুড়ির বুকে প্রতিদিন ৬০০-র বেশি মানুষ নিয়মিত টাটকা খাবার পাচ্ছেন।
কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি শক্তি।
এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে তিনি এখন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে অক্ষম পরিবারগুলোর মধ্যে বস্ত্রও বিতরণ করছেন। শিলিগুড়িতে শিশুদের পড়াশোনার খরচে সহায়তা করছেন এবং যাঁরা চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। এক সময়ের এক হাঁড়ি ভাত, আজ রূপ নিয়েছে এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ে—যেখানে মিলছে পুষ্টি, সম্মান, শিক্ষা ও যত্ন। আর এই সবকিছুই তিনি করে চলেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিজের দায়িত্ব পালন করতে করতেই।