সেই একই ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকার নীচে এবং সেই একই আনুষ্ঠানিক পথে, যেখানে একসময় ইতিহাস একজন বাবার সুশৃঙ্খল নেতৃত্বে কুচকাওয়াজের সাক্ষী ছিল, সময়ের প্রবাহ আজ সেই গর্বের মুহূর্ত ফিরিয়ে এনেছে।
৩ গোর্খা রাইফেলসের ব্রিগেডিয়ার রাজীব নাগয়াল ২০০১ সালে রাজপথে তাঁর কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পঁচিশ বছর পর, ২০২৬ এ সেই মুহূর্তটিই নতুন অর্থ খুঁজে পাবে, যখন তাঁর ছেলে, আইএনএস বিয়াসের লেফটেন্যান্ট করণ নাগয়াল কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ এ নেতৃত্ব দেবেন।
এই ঘটনা, একটি সুলালিত স্মৃতিকে ঐতিহ্য, ত্যাগ এবং জাতির প্রতি সেবার এক নিরবচ্ছিন্ন চেতনার শক্তিশালী প্রতীকে রূপান্তরিত করছে।
নাগয়াল পরিবারের জন্য, এটি ইতিহাসে খোদাই করার মত একটি মুহূর্ত। আর জাতির জন্য, এটি একটি চেতনার উৎস।
ঐতিহ্য যখন সেবার উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়, তা সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ক্রমশ এগিয়ে চলে।
৩ গোর্খা রাইফেলসের (জিআর) ব্রিগেডিয়ার রাজীব নাগয়াল ২০০১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ৩ জিআর কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার গর্বের কথা স্মরণ করে বলেন। “আমার ছেলেকে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দিতে দেখে রাজপথে (এখন কর্তব্য পথ) আমার নিজের কুচকাওয়াজের স্মৃতি ফিরে আসে। নস্টালজিয়ার চেয়েও বেশি, এটি আমাকে গর্বে ভরিয়ে তোলে এই ভেবে যে, কীভাবে সশস্ত্র বাহিনী সমন্বয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে,” । প্রসঙ্গতঃ ব্রিগেডিয়ার রাজীব নাগয়াল, নিজে তাঁর বাবার ৫ নম্বর ব্যাটালিয়ন, ৩য় জিআর-এ যোগদান করেছিলেন।
তৃতীয় প্রজন্মের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট করণ নাগয়ালের কাছে এই উপলক্ষটি একই সাথে অনুভুতির এবং অনুপ্রেরণার। “আমাদের পরিবারে সেবা কখনোই শুধু একটি পেশা পছন্দ করার বিষয় ছিল না, এটি সবসময় আমাদের যাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমার বাবা ঠিক ২৫ বছর আগে যেমন করেছিলেন, তার ঠিক ২৫ বছর পর সেভাবেই প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে একটি কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেওয়া একটি সম্মান যা গভীর দায়িত্ব এবং কৃতজ্ঞতা বহন করে,” তিনি বলেন।
“২০০১ সালে, এক বছর বয়সি শিশু হিসেবে মায়ের হাত ধরে রাজপথে কুচকাওয়াজ দেখতে এসে আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে আমিও এই বিরল সম্মান পাব,” যোগ করেন এই তরুণ সৈনিক।
এই বাবা-ছেলের মাইলফলকটি সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টার একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়কে তুলে ধরে।
যদিও প্রতিটি বাহিনী তার নিজস্ব ঐতিহ্য ও ভূমিকা বজায় রাখে, তবুও নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা এবং জাতির প্রতি নিষ্ঠার অভিন্ন আদর্শে তারা একতাবদ্ধ।
এই মুহূর্তটি মূল্যবোধ, সেবা এবং প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতাকেও তুলে ধরে, যখন এক প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের হাতে মশাল তুলে দেয়। যখন সেনাদলগুলো একযোগে কুচকাওয়াজ করে, তখন তারা কেবল গর্বিত নির্ভুল পদক্ষেপই নয়, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর অবিচল নিষ্ঠাকেও প্রতিফলিত করে।


