‘কলকাতা গিভস’ আয়োজিত শহরের বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান- ‘কলকাতা গিভস ২০২৫’–এ একশোরও বেশি বিশিষ্ট দাতা ও সমাজহিতৈষীর কাছ থেকে সফলভাবে ৫ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য অর্থ চারটি স্থানীয় এনজিও— মনোবিকাশ কেন্দ্র, সামারিটান হেল্প মিশন, সানবার্ড ট্রাস্ট এবং মুক্তি (MUKTI)—র হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রতিবন্ধী সহায়তা, শিক্ষা, শিশু বিকাশ এবং সামাজিক রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের কাজ আরও বিস্তৃত করতে পারে।
তহবিল সংগ্রহকারী সংস্থা কলকাতা গিভস ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাদের বার্ষিক ফান্ডরাইজিং ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করে। এই প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল এর স্বচ্ছতা। এটি কোনও এককালীন দানের অনুষ্ঠান নয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তিরা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে পারেন তাঁদের অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তার প্রভাব কী।
কলকাতা গিভস-এর ট্রাস্টি পবন আগরওয়াল বলেন,
“এই অনুষ্ঠানটি আমাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে— কলকাতা সত্যিই এক বিশাল হৃদয়ের শহর। শহরের মানুষ যে উদারতার সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন, তার ফলে এই এনজিওগুলি তাদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, কাজের পরিধি বাড়াতে এবং হাজার হাজার মানুষের জীবনে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারবে।”
কলকাতা গিভস-এর এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া চারটি উল্লেখযোগ্য এনজিও হল—
মনোবিকাশ কেন্দ্র: মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কাজ করে।
সামারিটান হেল্প মিশন: হাওড়া জুড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে।
সানবার্ড ট্রাস্ট: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামগ্রিক শিশু বিকাশে কাজ করে।
মুক্তি (MUKTI): সুন্দরবনে সামাজিক রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে।
মনোবিকাশ কেন্দ্রের ট্রাস্টি প্রফেসর অনুরাধা লোহিয়া জানান, সংস্থার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে গ্রোথ ক্যাপিটালের প্রয়োজন রয়েছে, যার মাধ্যমে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD)-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সামারিটান হেল্প মিশন তাদের বাঁকড়া অঞ্চলের স্কুল চত্বরে একটি নতুন তিনতলা স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য তহবিলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সানবার্ড ট্রাস্ট উত্তর-পূর্ব ভারতে নতুন স্কুল, টিউশন কেন্দ্র ও হোস্টেল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তার আবেদন জানায়।
মুক্তি (MUKTI) সুন্দরবন জুড়ে তাদের ব্রিজ স্কুল কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য অর্থ সহায়তা চায়।
প্রফেসর অনুরাধা লোহিয়া বলেন,
“এই অনুষ্ঠানটি আমাদের যাত্রাপথে এক প্রকৃত গেমচেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে— যেখানে আমরা প্রচলিত পদ্ধতি থেকে AI-নির্ভর ASD নির্ণয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এই মূল্যবান তহবিল আমাদের পরবর্তী ধাপে প্রযুক্তি-সংক্রান্ত নিয়োগ দ্রুত করতে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ গড়ে তুলতে পারব এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতা ও তার চিকিৎসা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ পাব।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পপতি ও ২০২৫ সালের পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সজ্জন ভজনকা মন্তব্য করেন,“এ ধরনের উদ্যোগ শহরে দানের সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে এবং এনজিওগুলির জন্য ব্যক্তিগত গ্রোথ ক্যাপিটালে পৌঁছনোর পথ সুগম করে।”


