Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

ডঃ কে লক্ষ্মী বাই; এক শতাব্দীব্যাপী সেবা, সহানুভূতি এবং মহৎ উদ্দেশ্যর গল্প

ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ কে লক্ষ্মী বাই, নারীদের ক্যান্সার পরিষেবা সহায়তার জন্য তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় ৩.৪ কোটি টাকা, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) ভুবনেশ্বরকে দান করেছেন।
এই অসাধারণ কাজটি তিনি করেছেন তাঁর শততম জন্মদিন উদযাপনের মাত্র কয়েক দিন আগে।
টিএনআইই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডঃ লক্ষ্মী বলেছেন, তাঁর ইচ্ছা যে এই অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্ত্রীরোগের সঙ্গে জড়িত অনকোলজির একটি বিভাগ তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের গড়ে তুলতে এবং অসংখ্য নারীকে আশা জোগাতে সাহায্য করবে।
এই যুগান্তকারী অবদান ছাড়াও, ডঃ বাই বেরহামপুর অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি সোসাইটিকে ৩ লক্ষ টাকা দান করেছেন, যা তরুণীদের মধ্যে ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হবে।
তাঁর এই কাজ চিকিৎসা মহলে গভীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। এইমস ভুবনেশ্বরের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান ডঃ সৌভাগ্যকুমার জেনা চেকটি গ্রহণ করার পর তাঁর এই মহৎ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করেছেন।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, সোসাইটির সেক্রেটারি ইন্দিরা পাল বলেছেন, “কিশোরী মেয়েদের ক্যান্সার টিকাদানের জন্য তিনি যে ৩ লক্ষ টাকা দান করেছেন, তা সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য আমরা সদস্যদের সাথে আলোচনা করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করব।”
পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় বিস্তৃত চিকিৎসা জীবনে, ডঃ লক্ষ্মী বাই কেবল তাঁর চিকিৎসা দক্ষতার জন্যই নয়, নারীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতি তাঁর অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্যও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
১৯২৬ সালের ৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী, উড়িষ্যার গঞ্জাম জেলার বেরহামপুর শহরের বাসিন্দা, ডঃ লক্ষ্মী বাইয়ের বর্ণাঢ্য চিকিৎসক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৪৫ সালে, যখন তিনি কটকের এস সি বি মেডিকেল কলেজের সর্বপ্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি হন।
তিনি ১৯৫০ সালে তাঁর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং ১৯৫৮ সালে মাদ্রাজ মেডিকেল কলেজ থেকে ডিজিও এবং এমডি (প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ) উভয় ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাগত মেধা, তাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স হাসপাতালে এমপিএইচ করার জন্য এক বছরের একটি লোভনীয় বৃত্তি লাভের সুযোগ করে দেয়।
পাশাপাশি ১৯৫০ সাল থেকেই তিনি সুন্দরগড় সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান শুরু করেন এবং ১৯৮৬ সালে বেরহামপুরের এম কে সি জি মেডিকেল কলেজের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সমাজের প্রতি ডঃ বাইয়ের অসাধারণ অবদানের প্রশংসা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি মুর্মু নারী কল্যাণ ও শিক্ষার জন্য ডঃ বাইয়ের চার দশকেরও বেশি সময়ের সেবার প্রশংসা করে তাঁকে অনুপ্রেরণা এবং সহানুভূতি ও সামাজিক প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ডঃ বাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এইমস ভুবনেশ্বরের কার্যনির্বাহী পরিচালক ডঃ আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, “তাঁর এই অসাধারণ উদ্যোগ শুধু একটি আশীর্বাদই নয়, এটি উচ্চমানের রোগীর সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং উন্নত গবেষণার ক্ষেত্রে এইমস ভুবনেশ্বরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি শক্তিশালী স্বীকৃতিও বটে।”
দান করা অর্থ দিয়ে একটি তহবিল গঠন করা হবে, যার সুদ স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যান্সার গবেষণা, দরিদ্রদের জন্য কমিউনিটি অনকোলজি পরিষেবা এবং প্রতিরোধমূলক অনকোলজি উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। তহবিলটির সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট এবং ভারপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহী পরিচালক ডঃ দিলীপ পরিদার নেতৃত্বে এইমস ভুবনেশ্বরের একটি প্রতিনিধিদল জ্যেষ্ঠ পরিষদ সদস্যদের সাথে ডঃ বাইয়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান।
ডঃ লক্ষ্মী বাই তাঁর গোটা কর্মজীবনে বহু স্বীকৃতি লাভ করেছেন। তিনি দক্ষিণ ওড়িশার লেডি এমিনেন্স, ভারত জ্যোতি পুরস্কার, ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি এবং বেস্ট সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
যে বয়সে পৌঁছে তিনি নিজের মহিমান্বিত অতীতের গৌরব ও সংস্থানকে পাথেয় করে আরামে দিন কাটাতে পারতেন, সেই সময়েও নিজের আজীবনের লক্ষ্যে অবিচল থেকে ডঃ কে লক্ষী বাই প্রমাণ করলেন সমাজের আসল পরিবর্তন বড় বড় কথা নয় শুরু হয় মহৎ চিন্তাশক্তির থেকেই….