আপনার কাছে যদি টাকা না থাকে কিন্তু পৃথিবী দেখার তীব্র ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি কী করবেন?
২৫ বছর বয়সি, সরস্বতী নারায়ণ আইয়ারের জন্য উত্তরটা ছিল সহজ — তথাকথিত নিয়ম নয়, ইচ্ছের পথকেই অনুসরণ করো।
দুই বছর আগে, তিনি এমন একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা বেশিরভাগ মানুষ স্বপ্নেও ভাবতে সাহস করবে না — তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং খাওয়া দাওয়া, পথ খরচ বা থাকার বাবদ একটি টাকাও খরচ না করে ভারতজুড়ে এক যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা করেন।
লাগেজ, মাত্র দুটি শাড়ি, একটি তাঁবু আর একটি পাওয়ার ব্যাংক।
এইটুকু সম্বল এবং এক অদম্য মনোবলকে সঙ্গী করে সরস্বতী দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে দেখতে বেরিয়ে পড়েন।
বাস্তবে — ব্যস্ত শহর থেকে শান্ত গ্রাম, পাহাড় থেকে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে — প্রমাণ করে দেন যে, যেখানে সাহস আছে, সেখানেই পথ আছে।
কি ছিল তার অবিশ্বাস্য ভ্রমণশৈলী ???
হিচহাইকিং ও হাঁটা: সরস্বতী হেঁটে বা হিচহাইকিং করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন, পথে বহু অপরিচিতদের দয়ার উপর তিনি নির্ভর করেন যারা তাকে গাড়িতে কিছুটা করে রাস্তা লিফট দেন।
থাকার জায়গা: হোটেলের কথা ভুলে যান — রাত্রিকালীন আশ্রয়ের জন্য সরস্বতী মন্দির, ধর্মশালা, আশ্রমের মত স্থান বেছে নিয়েছেন। অথবা কখনও কখনও খোলা আকাশের তারার নিচে নিজের তাঁবু খাটিয়েও রাত্রিযাপণ করেছেন।
খাবার: তিনি খাবার কিনে খান না। পরিবর্তে, তিনি খাবারের জন্য কাজ করেন — মন্দির পরিষ্কার করা, তাদের কাজে সাহায্য করা বা রান্নাঘরের কাজে হাত লাগিয়ে প্রতিটি খাবার পর্বকে তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও মানবিক জনসংযোগের এক মাধ্যমে পরিণত করেন।
এই ভ্রমণের মাধ্যমে অনলাইনে হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছেন তিনি।
তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল ‘সেফ লাড়কি’ এবং ইউটিউব চ্যানেল ‘ট্র্যাভেল উইথ আইয়ার’-এর মাধ্যমে সরস্বতী তার নির্ভীক অভিযানের কথা তুলে ধরেন। মানুষকে শেখান যে নিরাপত্তা টাকাপয়সা থেকে আসে না — নিরাপত্তা আসে সচেতনতা, সাহস এবং সহমর্মিতার থেকে। তার হাসি এবং আন্তরিকতা তাকে একজন ডিজিটাল অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছে। সামাজিক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখা যে কারও জন্য তিনি আজ একজন আইকন।
সরস্বতী আইয়ারের গল্পটি আজ আর শুধু একক ভ্রমণ নিয়ে নয় — এটি আজকের সময়েও নারী হিসেবে এবং নারীদের প্রতি সমাজের বিশ্বাস, আস্থা এবং আজও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকা সহানুভূতির জাদুর উপকথা।
বিলাসবহুল ছুটিতে মগ্ন এই পৃথিবীতে, সরস্বতী আইয়ার আমাদের মনে করিয়ে দেন যে সবচেয়ে বড় যাত্রা তখনই শুরু হয় যখন আপনি ভয়কে জয় করে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে পথ চলেন।
সরস্বতী আইয়াররা এভাবেই হয়ে ওঠেন আধুনিক যুগের অতীশ দীপঙ্কর।


