Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

৪৮ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে সোনা—জ্যোৎস্না বেঙ্কটেশ নাইডুর অবিশ্বাস্য জয়ের কাহিনি

বেঙ্গালুরুর ৪৮ বছর বয়সি ব্যবসায়ী জ্যোৎস্না বেঙ্কটেশ নাইডু সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ১৫–১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত আইসিএন ওয়ার্ল্ড ন্যাচারাল গেমস-এর ন্যাচারাল বডিবিল্ডিং অ্যান্ড ফিটনেস অ্যাঞ্জেল ক্যাটেগরিতে স্বর্ণপদক জিতে শিরোনামে উঠে এসেছেন।

এই প্রতিযোগিতার মোট চারটি বিভাগে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। একটি স্বর্ণপদক ছাড়াও বাকি তিনটি বিভাগে তিনটি রুপো জিতেছেন তিনি।

তার অংশগ্রহণ ও সাফল্য প্রমাণ করেছে—বয়স কখনও স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না।
জ্যোৎস্না ২০১৯ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। ২০২২ সালের প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তিনি থেমে যাননি। অবিচল পরিশ্রম চালিয়ে গিয়ে প্রথমে রাজ্যস্তরে জয়, তারপর বিশ্বমঞ্চে সোনা—এভাবেই তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

শরীরচর্চার এই কঠিন যাত্রায় তিনি নিজের জীবনকেও আমূল বদলে ফেলেন। ৮০ কেজি ওজন থেকে তিনি ২৮ কেজি কমান—কঠোর খাদ্যনিয়ম, নিয়মিত ব্যায়াম, প্রতিদিন ২০ হাজার পদচারণা এবং দুই ঘণ্টার জিম ট্রেনিংয়ের কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে।

তার ক্যাটেগরিতে ভারত থেকে মাত্র আটজন অংশ নেন—ছয়জন পুরুষ এবং দুইজন নারী। জ্যোৎস্না কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেছেন তার কোচ সবারিশ বালাকৃষ্ণ নাইডুকে, যার প্রশিক্ষণ ও সমর্থন তার জয়যাত্রায় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আইন পড়ুয়া মেয়েও ছিল অনুপ্রেরণার এক শক্ত স্তম্ভ।

৪০ বছরের বেশি বয়সি নারীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ—“স্বপ্নকে ভয় পেও না। আমি পেরেছি, তুমিও পারবে।”
শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক জ্যোৎস্না—মন্তব্য কোচের। সবারিশ বালাকৃষ্ণ নাইডু জ্যোৎস্নার নিষ্ঠা, সময়নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে বলেন, “ওজন তোলার প্র্যাকটিসে তিনি খুবই সক্রিয় ছিলেন। কঠোর খাদ্যনিয়ম এবং সময়মতো ট্রেনিং—এই দুই বিষয়কেই তিনি কখনও এড়িয়ে যাননি।”
একজন মা। একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। একজন পথপ্রদর্শক।

৪৮ বছর বয়সে জ্যোৎস্না বেঙ্কটেশ নাইডুর বিশ্বজয় প্রমাণ করেছে—স্বপ্নের পেছনে দৌড়াতে বয়স কোনও বাধা নয়।

শৈশব থেকেই তার ইচ্ছা ছিল ছয়-প্যাক অ্যাবস গড়ার। কিন্তু অতিরিক্ত ওজন তাকে বারবার পিছিয়ে দিত। অনেক সময় নিজের অতিরিক্ত ওজনের জন্য অপদস্থ ও হতে হয়েছে জ্যোৎস্নাকে।
৪০-এ পা দেওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন—আর অপেক্ষা নয়, আর কোনও অজুহাত নয়।

অদম্য শৃঙ্খলা, দীর্ঘ ব্যায়াম, আর সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে তিনি শরীরের চর্বির হার ২৫% থেকে নামিয়ে আনেন ১৪%-এ। কোনও শর্টকাট বা সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই ২৮ কেজি কমিয়ে তিনি তৈরি করেন নিজের ফিটনেসের নতুন ইতিহাস।

নারীদের বডিবিল্ডিং নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে তিনি অনুপ্রাণিত করেছেন নিজের মেয়ে, নিজের বন্ধু মহল এবং অসংখ্য নারীকে—প্রমাণ করে যে ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।
নারীদের উদ্দেশে তার বার্তা—“আমি যদি ২৮ কেজি কমিয়ে সোনা জিততে পারি, তুমি কেন পারবে না?”