Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

নিজের গ্রামকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন—ভাটওয়াড়িকে দত্তক নিলেন অভিনেত্রী হিমানি শিবপুরী

মঞ্চ ও পর্দায় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। হাম আপকে হ্যাঁ কৌন, দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে–র মতো জনপ্রিয় বহু বহু ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি লাভ করা অভিনেত্রী হিমানি শিবপুরী এবার আলোচনায় এসেছেন অন্য এক কারণে। নিজের জন্মভূমি উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার ভাটওয়াড়ি গ্রামকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক নিয়েছেন।

নিজের গ্রাম, নিজের জন্মভৃমিকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
কীভাবে গ্রামের মানুষ তাঁর সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করেছেন?
তিনি ঠিক কী পরিবর্তন আনতে চান এবং বিশেষ করে গ্রামের মহিলাদের সাসটেনেবল জীবিকা গড়ে তুলতে কী পরিকল্পনা রয়েছে—সব কথাই ভাগ করে নিলেন হিমানি।
হিমানি বলেন,
“আমার গ্রাম ভাটওয়াড়ি রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত। এখানে আছেন মাত্র ১০–১২ জন বৃদ্ধ পুরুষ এবং প্রায় ২৫ জন মহিলা। পুরো গ্রামটাই অপূর্ব সুন্দর—লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির ও আরও এক প্রাচীন মন্দির ঘিরে মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি।”
তিনি জানান, গ্রামের মহিলারা গান গাইতে, নাচতে এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজাতে দক্ষ। কিন্তু বড় সমস্যা হলো—গ্রামে মানুষের সংখ্যা দিনদিন কমছে, বিশেষ করে পুরুষেরা কর্মের সন্ধানে বাইরে চলে যাওয়ায় কৃষিকাজ প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা–সহ ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধারও অভাব।
“কারও অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে দেরাদুনে যেতে হয়।
তাই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমি গ্রামের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালুর দিকেই কাজ শুরু করেছি,” জানালেন হিমানি।

মহিলাদের অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতেও বিশেষ উদ্যোগের কথা মাথায় আছে তাঁর
ভাটওয়াড়ির জনসংখ্যার বড় অংশই মহিলা—এদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর নিজের কাকিমা ও কাকিমার পুত্রবধূও। তাই তাঁদের ক্ষমতায়নকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন হিমানি।
তিনি বলেন, “একটা কথা স্বীকার করতেই হবে—উত্তরাখণ্ডের মহিলারা, আমিও সেই দলে (হাসি), অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মানসিকভাবে দৃঢ়। চিপকো আন্দোলন, শরাব বন্দি —এমন বহু ঐতিহাসিক আন্দোলনে তাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই আমি চাই, গ্রামের মহিলারা যেন এখানেই থেকে তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জীবিকা অর্জন করতে পারেন।”
শীঘ্রই শুরু হবে পশুপালন প্রশিক্ষণ, গোবর থেকে ধূপবাতি ও অন্যান্য পণ্য তৈরি, এবং জৈবচাষ শেখানোর কর্মসূচি।
হিমানির স্বপ্ন—ভাটওয়াড়িকে এমন এক মডেল গ্রামে পরিণত করা, যেখানে জীবিকার সন্ধানে কাউকে আর বাইরে যেতে না হয়।

“আমি চাই ভাটওয়াড়ি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক—গ্রামে থেকেও যে অর্থোপার্জন করে সম্মানজনক জীবন গড়ে তোলা যায় তার উদাহরণ হয়ে উঠুক এই গ্রাম। এখানে গ্রামীণ পর্যটনেরও সম্ভাবনাও প্রবল—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ র্যাঞ্চে গিয়ে গ্রাম্য জীবন উপভোগ করে, সেরকম এখানেও সম্ভব ” বলেন তিনি।
তাঁর কথায়, “এখন তো সবেমাত্র শুরু। ধীরে ধীরে এগোচ্ছি। রাতারাতি সবকিছু বদলে দেওয়ার শক্তি আমার নেই, তবে যতটা পারি, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
থিয়েটার-টেলিভিশনের ব্যস্ত কাজের পাশাপাশি এমন বড় উদ্যোগ সামলানো নিশ্চয়ই কঠিন—এ কথা বলতেই হিমানি হেসে উঠলেন।
“মেয়েরা তো স্বভাবগতভাবেই মাল্টিটাস্কার।”