রাজস্থানের সিকার জেলার কৃষাণী সন্তোষ পচার ছোটবেলা থেকেই এক স্বপ্ন দেখেছিলেন— বাজারে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের গাজর ফলানোর। প্রথাগত কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও, মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই নারী কৃষক নিজের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ে চাষের ধরনই বদলে দিয়েছেন।
সন্তোষ জানান, “২০০২ সাল থেকে আমরা আমাদের ৩০ বিঘা (প্রায় ১০ একর) জমিতে জৈব পদ্ধতিতে গাজরসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসল চাষ করতাম। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতাম না। দেখি, গাজরগুলো বেশিরভাগ সময়ই সরু সরু ও বাঁকা হয়ে যেত।”

সমস্যার সমাধান খুঁজতে সন্তোষ কৃষি মেলা ও প্রদর্শনীতে যাওয়া শুরু করেন। জ্ঞান অর্জনের এই নিরন্তর প্রয়াসই তাঁকে এনে দেয় এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।
তিনি এক নতুন পরাগায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন— ১৫ মিলি মধুর সঙ্গে ৫ মিলি ঘি মিশিয়ে সূর্যের সরাসরি আলো থেকে দূরে শুকিয়ে রাখেন।
কয়েকটি মরসুম পরেই মিলল চমকপ্রদ ফলাফল। সন্তোষ বলেন, “গাজরগুলো আগের চেয়ে অনেক মিষ্টি ও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আকার ও আকৃতিও নিখুঁত হতে শুরু করল।”

এরপর আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সন্তোষ উদ্ভাবন করেন এক নতুন বীজের প্রজাতি— ‘এসপিএল ১০১’ (SPL 101)। এই বীজের গাজর মাত্র ৭৫ দিনে প্রস্তুত হয়ে যায়— আগের জাতের তুলনায় ১৫ দিন কম সময়ে। আর প্রতিটি গাজরের দৈর্ঘ্য ছিল ১.৫ থেকে ২.৫ ফুট পর্যন্ত।
শুধু বড় ও দ্রুত-বর্ধনশীলই নয়, এই নতুন গাজর প্রজাতি কীটপতঙ্গ প্রতিরোধেও ছিল আরও সক্ষম। ফলে সন্তোষের আয় বেড়ে দাঁড়ায় বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা!
পরিবেশবান্ধব কৃষি ও উদ্ভাবনী চিন্তার জন্য গাজর চাষে তাঁর এই অসাধারণ কৃতিত্ব তাঁকে এনে দিয়েছে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার— যা তাঁর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।


