Saturday, May 9, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

গরমের থেকে বাঁচতে গাছের শামিয়ানা, রেকর্ড গড়লেন মহিশূরের হায়দার আলি

ভোরাই ডেস্ক: “প্রতিটি বাড়িতে গাছ, প্রতিটি গ্রামে বাগান।” – এটি কোন রূপকথা নয়, এটি মহিশূরের হায়দার আলি খানের স্বপ্ন।

মহীশূরের তিলকনগরের ইদগাহ মাঠে তিনি ৩১৩টি গাছ দিয়ে একটি প্রাকৃতিক ছাউনি তৈরি করেছেন, যার ছায়ায় ১২ হাজার মানুষ আরামে বসতে পারেন। ৬৫ বছর বয়সি হায়দার আলি শুধু গাছ লাগান না, তাদের বিশেষ কৌশলে ছাতা ও প্যান্ডেলের আকারও দেন।

১৯৯৯ সালে ইদগাহ ময়দান থেকে তার যাত্রা শুরু হয়, যেখানে তিনি প্রথমবার এই আকারে গাছ বাড়িয়েছিলেন। বিয়ের মণ্ডপ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি এই কৌশল তৈরি করেছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ২০০০-টিরও বেশি গাছ রোপণ করেছেন, যারা আজও বেঁচে আছে।

“সেটা ১৯৮০ সাল, আমি কোলহাপুরের একটি তুলা কারখানায় মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতাম। একদিন, আমি কিছু মাল নিয়ে ওয়ার্কশপ থেকে ফ্যাক্টরিতে যাচ্ছিলাম। খুব ক্লান্ত বোধ করছিলাম, তখন আমি একটি গাছের নিচে বসলাম। সেই গাছের ছায়ায় বসে আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাই, তখনও আমি জানতাম না এরপরে আমার কী করা উচিৎ।”

১৯৯৮ সালে মহিশূরে নিজের বাড়িতে ফিরে এসে তিনি ইদগাহ মাঠে গাছ লাগানো শুরু করেন। যখন এই গাছগুলো বাড়তে শুরু করলো, হায়দার দেখলেন তাদের নিচে মানুষ বসে আছে বা বিশ্রাম করছে। সমস্ত গাছ একে অপরের কাছাকাছি ছিল; এখান থেকেই তাদের একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে ‘শামিয়ানা’ বানানোর ভাবনা আসে তার।

একটিও ডাল না কেটে এবং কোনো যন্ত্র ছাড়াই তিনি শুধু একটি সুতলি দিয়ে গাছগুলোকে একত্রে বেঁধে ছাউনি বানানো শুরু করলেন এবং মাঠের চেহারা বদলে গেল।

গত ২০ বছরে, ইদগাহ মাঠ ছাড়াও, খান সাহেব রাস্তার পাশে এবং স্কুল ক্যাম্পাসে ২২৬২টি গাছ লাগিয়েছেন হায়দার।

প্রথম দিকে নিজের পরিশ্রম ও গাঁটের কড়ি খরচ করেই এই কাজ করতেন তিনি, ধীরে ধীরে বিভিন্ন স্কুল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তিগত স্তরেও বহু মানুষ তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন।

আজও, তাঁকে নিজের সাদামাটা স্কুটারে দুটি স্টিলের স্টুল ও একটি দড়ি নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। দেখা যায় গাছের সাথে গাছ বেঁধে শামিয়ানা তৈরি করতে।

দেশের যেকোনও জায়গা থেকে ডাক আসলেই সেখানে এই কাজ করতে রাজি তিনি।