ভোরাই ডেস্ক: অবসরগ্রহণের পরও তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা এবং ডাক্তারি পড়ুয়াদের ক্লাস করাচ্ছেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ স্বপনকুমার সামন্ত। ৪৫বছরের কর্মজীবন কাটানোর পরও ৭২বছর বয়সে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও পঠনপাঠনে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। শুধু তাই নয়, তমলুক ব্লকের শালিকা-দামোদরপুরে নিজের জন্মস্থানে বিনামূল্যে আঁকার স্কুল গড়েছেন। মায়েদের ছ’মাসের সেলাইয়ের কাজে ট্রেনিং দিয়ে তাঁদের সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ওই চিকিৎসক। নিজের প্রয়াত বাবার স্মরণে স্কুল গড়ে সেখানে পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে প্রকৃত মানুষগড়ার পাঠদানও চলছে। চক্ষুরোগ নিয়ে সচেতনতায় সারা দেশের নামী চিকিৎসকদের নিয়ে গড়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব কমিউনিটি অপথালমোলজিস্টস অব ইন্ডিয়া(অ্যাকোয়েন) সংগঠন। সেই সংগঠন দেশব্যাপী ‘দৃষ্টি সুরক্ষা যাত্রা’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চোখের চিকিৎসায় নানাভাবে সচেতন করছে।
তমলুক শহরের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত স্বপনবাবু। বিলেত ফেরত এই চিকিৎসকের বাড়ি তমলুক শহরে আবাসবাড়িতে। ২০১৮সালে ৩১ডিসেম্বর ৬৫বছর বয়সে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে অবসর নেন। তারপর ছত্তীসগঢ়ে রায়গড় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চক্ষু বিভাগের প্রধান হন। ২০২৩সালে ৩১ডিসেম্বর সেখান থেকে অবসর নেন। এরপরই স্বপনবাবু নিজের জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘ভলান্টারি সার্ভিস’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো ২০২৪সালের জুন মাস থেকে ওই হাসপাতালে প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার তিনি বিনা বেতনে পরিষেবা দেন। এমবিবিএস পড়ুয়াদের ক্লাসও নেন। বছর ৭২-এর স্বপনবাবু নামী চিকিৎসক হিসেবেই পরিচিত। স্বপনবাবু বলেন, আমার বাবা নাইকুড়ি ঠাকুরদাস ইনস্টিটিউশনের সহ প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ঠাকুরদা চনশ্বরপুর জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ছোট থেকে গাইড থাকায় আমি একজন চিকিৎসক হতে পেরেছি। কিন্তু, আমার অনেক সহপাঠী মেধা থাকা সত্ত্বেও সঠিক গাইডের অভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। তখন আমিও তাদের পাশে দাঁড়াতে পারিনি। তাই একপ্রকার প্রায়শ্চিত্যের জায়গা থেকেই আমি গ্রামে বিদ্যালয় খুলেছি। সেখানে পুঁথিগত পঠনপাঠনের বাইরে নানা বিষয় শেখানো এবং পারদর্শী করে তোলা হয়। (সূত্র: বর্তমান)


