Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

মণিপুর: জীবনের পঞ্চান্নটি বছর দিয়ে লিব্বা অ্যাপ্লিকের প্রাচীন ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন প্রবীণা

অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে একটি বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে কী কী প্রয়োজন হয়?
লৌরেম্বাম বিনো দেবীর কাছে এর উত্তরটা সবসময়ই সহজ ছিল।
ধৈর্য্য, ভক্তি এবং লক্ষে উৎসর্গীকৃত একজোড়া সুস্থির ও পটু হাত।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিনো দেবী তাঁর শিল্পচর্চার যাত্রা শুরু করেন। তাঁর শাশুড়ি, যিনি নিজেও একজন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী শিল্পী ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে লিব্বা অ্যাপ্লিকের সূক্ষ্ম কারিগরী গুলি শেখা শুরু করেন তিনি।
নিজের পরিবারের কাছে দেখা একটি ছোট রুমাল দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তার কারুকাজ আয়ত্ত করা, শীঘ্রই তাঁর জীবনের ব্রত হয়ে ওঠে।
কোনো স্কেচ বা যন্ত্র ছাড়াই, শুধুমাত্র আয়ত্ত করা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে, হাতে কেটে তিনি এমন মোটিফ তৈরি করতে শিখেছিলেন, যার প্রতিটি নক্সা কিছু অর্থ, কিছু স্মৃতি এবং অনেকটা সাংস্কৃতিক পরিচয়  বহন করে। ১৯৭০ সালে, তিনি তাঁর প্রথম প্রদর্শনীর জন্য দিল্লিতে যান এবং তাঁর কারুশিল্পের জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। বছরের পর বছর ধরে, তিনি লিব্বা শিল্পের প্রায় ৩০টি জটিল নক্সায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং মনমাই বালিশের কভার, নিংখাম সামজিন, লুহং ফিজিন, লুহং ফিজিত, খুডোল খুঙ্গুপ এবং কাংখা আসুবার মতো ঐতিহ্যবাহী জিনিস তৈরি করেন।
প্রতিটি জিনিস তৈরি করতে বেশ অনেকগুলো দিনের প্রয়োজন হয়, প্রয়োজন হয় খুব সতর্কতার সাথে অবিরাম কাজ করে যাওয়ার, কারণ এগুলো শুধুমাত্র কাঁচি, সুঁচ, সুতো এবং কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। আজ আশি বছর বয়সে পৌঁছেও বিনো দেবী পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে চলেছেন, দৃঢ় সংকল্প নিয়ে, যাতে এই বিরল শিল্পটি অবশ্যই এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় এবং কখনও বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে না যায়। তাঁর স্বপ্ন সবসময়ই সুস্পষ্ট ছিল। লিব্বাকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এবং এটিকে বৃহত্তর বিশ্বে তার স্থান খুঁজে পেতে সাহায্য করা।
এই শিল্পের প্রতি তাঁর কয়েক দশকের উৎসর্গীকৃত কাজের জন্য তাঁকে ২০২২ সালে, পদ্মশ্রী পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়, যা এই অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত ও সংরক্ষণে তাঁর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়।
২১ জানুয়ারি, মণিপুর প্রতিষ্ঠা দিবসকে মাথায় রেখে, আসুন আমরা সেই শিল্পীদের কর্মঠ হাতগুলোকে স্মরণ করি যারা আমাদের ঐতিহ্যকে রক্ষা করে চলেছে তার সাথে প্রতিটি সুতোর মধ্যে বোনা তাদের জীবনের গল্পগুলোকেও মনে রাখি।