Saturday, August 15, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

কুমোরটুলির রোবোটিক দুর্গা: এআই-অনুপ্রেরণায় তৈরি হল প্রতিমা, নীল আলোর দীপ্তিতে জ্বলবে দেবীর চোখ

শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যে যেখানে মাটির প্রতিমা গড়ে ওঠে শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায়, সেই কুমোরটুলির আঁকাবাঁকা গলিতে এবার অনুপ্রেরণার নতুন উৎস আর স্কেচবুক বা শিল্পীর কল্পনা নয়— বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই (AI)।
এআই-এর তৈরি নকশায় ছিল অনেক ঘাটতি, অনুপস্থিত ছিল দেবদেবীদের বাহন, অস্ত্র ইত্যাদির। সেই ত্রুটি শুধরে ভবিষ্যতের ভাবনায় ঐতিহ্য অটুট রেখে এক অভিনব দুর্গা প্রতিমা গড়ে তুলছেন কুমোরটুলির শিল্পীরা।

কুমোরটুলির শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের একটি পুজো কমিটির জন্য বাংলার অন্যতম প্রথম এআই-নির্মিত রোবোটিক দেবী দুর্গার প্রতিমা বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন।
তবে এআই-এর তৈরি নকশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে পেরোতে হচ্ছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার— কুমোরটুলির অভিজ্ঞ শিল্পীদের সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির পরীক্ষা।

ইন্দ্রজিৎ পালের কথায়, “এআই অনেক ভুল করে। দেবী দুর্গার একটি হাতে অস্ত্রই নেই। আবার কার্তিক, সরস্বতী ও লক্ষ্মীর বাহনও দেখানো হয়নি। আমরা তো ছবিটি হুবহু নকল করতে পারি না। মূল ভাবনাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই এই ত্রুটিগুলি সংশোধন করতে হচ্ছে।”

তিনি জানান, এই প্রতিমা হবে প্রযুক্তি এবং শতাব্দী-প্রাচীন কুমোরটুলির শিল্পকলার এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ।

“এআই-এর ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ী নকশাটিকে বাস্তবে ফুটিয়ে তুলব, তবে প্রয়োজনীয় শিল্পসম্মত সংশোধন অবশ্যই করা হবে,” বলেন তিনি।

এই প্রতিমার সবচেয়ে অভিনব ও দৃষ্টিনন্দন বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল রূপ পরিবর্তনকারী মহিষাসুরের উপস্থাপনা। এখানে মহিষাসুরকে দেখানো হবে মানুষের শরীর এবং জলমহিষের মাথা নিয়ে।

এছাড়াও দেবী দুর্গার অস্ত্র, উড়ন্ত কেশরাশি এবং এমনকি চোখের মণিতেও বসানো হবে রিচার্জেবল বৈদ্যুতিক নীল (Electric Blue) আলোর ব্যবস্থা, যা প্রতিমাটিকে এক ভবিষ্যতধর্মী রূপ দেবে।

আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে এই আলোর ব্যবস্থায় সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ রাখা হবে না।

ইন্দ্রজিৎ পালের অনুমান, প্রতিমাটি সম্পূর্ণ করতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগবে।

শুধু প্রতিমাই নয়, পুজোর মণ্ডপও হবে সম্পূর্ণ রোবট-অনুপ্রাণিত, যার নকশাও তৈরি হয়েছে এআই-এর সাহায্যে।

তিনি বলেন, “আমাদের রোবট-অনুপ্রাণিত থিমের মূল ভাবনা হল, এআই ও প্রযুক্তির যুগে মা দুর্গা যেন আরও শক্তিশালী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রযুক্তি মানুষের কল্পনাশক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরীয় শক্তির কোনও বিকল্প হতে পারে না। সেই শক্তিকে কখনও প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।”