Friday, May 8, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

আদর্শ কুমার: বিশ্বসেরা দশ শিক্ষার্থীর তালিকায় ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি

ভারতের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আদর্শ কুমার ২০২৫ সালের চেগ গ্লোবাল স্টুডেন্ট প্রাইজ-এর (Chegg Global Student Prize 2025) শীর্ষ দশ শিক্ষার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
এ প্রতিযোগিতায় ১৪৮টি দেশের মোট ১১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাঁদের মধ্য থেকে অনন্য অবদানের জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন আদর্শ।

দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন স্কিলজো (Skillzo), যা দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্কিলজো ভারতের বিভিন্ন শহরে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছে।

আদর্শ বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া আমার কাছে এক বিশাল সম্মান। চম্পারন থেকে উঠে আসা, যেখানে সুযোগের প্রাপ্তি প্রায় ছিল না বললেই চলে, সেখান থেকে আজকের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করছে যে আমার মতো লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও গল্প শোনার যোগ্য। আমি জিতলে তা শুধু আমার জয় হবে না, বরং কম সুযোগ পাওয়া প্রতিটি তরুণের জন্য বার্তা হবে যে তাদের সংগ্রাম একদিন শক্তিতে রূপ নিতে পারে।”

আদর্শ কুমারের বাবা একজন ক্ষুদ্র কৃষক। মা অন্যের বাড়িতে গৃহ সহায়িকার কাজ করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আদর্শ-এর। শূন্য বাজেটে নিজের ল্যাপটপ থেকেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন স্কিলজো।

মাত্র আট বছর বয়স থেকেই ইন্টারনেট আর নিজের গ্রামীন পারিপার্শ্বিক থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করে গেছে আদর্শ। ব্যর্থ ও হয়েছেন তিনটিতে। কিন্তু স্কিলজো -র পাশাপাশি ‘মিশন বদলাও’ আর ‘ইগনাইট ভারত’ স্টার্টআপ-এর মাধ্যমেও গ্রামের মহিলাদের, শিশু ও ছাত্র ছাত্রীদের জন্য, গ্রামের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন আদর্শ।

১৪ বছর বয়সে নিজের পুরানো ল্যাপটপ, দশ হাজার টাকা আর শিক্ষালাভের অদম্য ইচ্ছে নিয়ে ঘর ছাড়েন তিনি।

বর্তমানে ১৮ বছর বয়সি আদর্শ জয়পুরের জয়শ্রী পেরিওয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর লক্ষ্য স্কিলজোকে বিশ্বব্যাপী একটি শিক্ষাবান্ধব প্ল্যাটফর্মের রূপ দেওয়া।

তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন হলো বিশ্বব্যাপী এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী, তাদের পটভূমি যাই হোক না কেন, সঠিক পরামর্শ, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। আমি চাই স্কুল পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরীর কর্মসূচি শুরু করতে, উদ্যোক্তা বিষয়ক কিশোর পাঠ্যপুস্তক তৈরি করতে, বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের থেকে মেন্টরশিপ দেওয়াতে এবং শিক্ষার্থীদের যাত্রাপথ তুলে ধরতে গল্প বলার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্কিলজো কেবল শুরু, আমার লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা যারা ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করতে পারবে।”
কী এই গ্লোবাল স্টুডেন্ট প্রাইজ?

চেগ.অর্গ গ্লোবাল স্টুডেন্ট প্রাইজ ২০২৫ হলো একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার, যা অসাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেয়—যাঁরা শিক্ষাক্ষেত্রে, সহপাঠীদের জীবনে এবং সামগ্রিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছেন।

এবারের প্রতিযোগিতা এই পুরস্কারের পঞ্চম আসর, যা ভার্কি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত হচ্ছে।
প্রথমে শীর্ষ ৫০ শিক্ষার্থীর তালিকা করা হয়, সেখান থেকে নির্বাচিত হয় শীর্ষ ১০। এরপর গ্লোবাল স্টুডেন্ট প্রাইজ অ্যাকাডেমি এই দশজনের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্ধারণ করে।
২০২৫ সালের গ্লোবাল স্টুডেন্ট প্রাইজ বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে চলতি মাসের শেষের দিকে।