Wednesday, May 13, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

আশারিকান্দির টেরাকোটা শিল্পে সাজানো ট্যাবলো: অসমের গ্রামে আনন্দের বন্যা

ধুবরির বিখ্যাত টেরাকোটা শিল্পের গ্রাম আশারিকান্দি ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পেতে চলেছে। নতুন দিল্লির কর্তব্য পথে আসামের ট্যাবলোতে এই গ্রামের স্বতন্ত্র টেরাকোটা ও মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

আশারিকান্দির জন্য, যেখানে মাটির কাজ কেবল জীবিকা নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলা একটি জীবনধারা, এই স্বীকৃতি শুধু গ্রামেই নয়, সমগ্র পশ্চিম আসাম জুড়ে গর্ব ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। শিল্পীরা বলছেন, এই স্বীকৃতি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সম্মান, যা বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও মেলায় প্রদর্শিত হলেও এমন বিশাল ও দৃশ্যমান মঞ্চে খুব কমই সুযোগ পেয়েছে।
গ্রামে শিল্পীদের পরিবারগুলো জানিয়েছে, এই নির্বাচন কীভাবে তাদের মনোবল বাড়িয়েছে, বিশেষ করে তরুণ কারিগরদের মধ্যে, যারা প্রায়শই অনিশ্চিত বাজারের সাথে তাল মেলাতে না পেরেও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সংগ্রাম করে যান, আজ তারা দেখছেন তাদের ঐতিহ্য জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পাচ্ছে , যা আশার আলো দেখায়।
আশারিকান্দির তরুণ শিল্পী দেবদাস পাল, যিনি ট্যাবলোতে গ্রাম এবং তার শিল্প সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, এই মুহূর্তটিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, “এটি এলাকার তরুণদের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। এটি প্রমাণ করে যে সত্যিই নতুন প্রজন্মকে টেরাকোটার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং জাতীয় দর্শকদের সামনে আশারিকান্দি গ্রামকে তুলে ধরার জন্য বিশ্বাস করা হচ্ছে।”

আসামের ট্যাবলোতে আশারিকান্দির টেরাকোটা সংস্কৃতির পরিচিত উপাদানগুলো তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে আইকনিক ময়ূরপঙ্খী নৌকা এবং হাতিমা পুতুল।

গ্রামবাসীরা বলছেন, এই রূপগুলোর উপর জোর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো স্থানীয় পরিচয় এবং নান্দনিকতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ট্যাবলোতে গ্রামের কাজের ধরন, হাতে ছাঁচ তৈরির কৌশল, সম্মিলিত শ্রম এবং সেই শিল্প পরিবেশও প্রতিফলিত হবে যা পরিবার ও প্রতিবেশীদের একত্রিত করে।

নর্থ ইস্ট ক্রাফট অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (NECARDO) পরিচালক বিনয় ভট্টাচার্য, যিনি কয়েক দশক ধরে আশারিকান্দিতে এই শিল্প ও শিল্পীদের প্রচারে কাজ করছেন, বলেছেন যে সম্প্রদায়টি অধীর আগ্রহে সেই মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছে যখন তাদের শিল্প দেশের সবচেয়ে দৃশ্যমান আনুষ্ঠানিক পথে প্রদর্শিত হবে।
তিনি বলেন, “এবার এটি দেশ ও বিদেশের দর্শকদের সামনে দৃশ্যমান রূপে উপস্থাপিত হবে। এর প্রভাব হবে অনেক বেশি তাৎক্ষণিক ও সুস্পষ্ট।” ভট্টাচার্য আরও বলেন যে, যদি ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং শক্তিশালী বাজার সংযোগ স্থাপন করা হয়, তবে এই মুহূর্তটির প্রভাব একটি কুচকাওয়াজের বাইরেও সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

তিনি বলেন, “এটি ভারতে নতুন করে একটি টেরাকোটা আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে। যাতে একটি বিলুপ্তপ্রায় শিল্পরূপ পুনরুজ্জীবিত হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ট্যাবলোটি টেরাকোটা ঐতিহ্যের প্রতি ব্যাপক প্রশংসা জাগিয়ে তুলবে এবং আশারিকান্দির মতো কারুশিল্প ক্লাস্টারগুলোর জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে।

আশারকান্দির গ্রামের পরিবেশ এখন আনন্দ এবং আশাপূর্ণ প্রত্যাশার এক মিশ্রণে পরিপূর্ণ। কারিগররা যখন তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন—মাটি মাখা, আকার দেওয়া এবং পোড়ানোর জন্য জিনিসপত্র প্রস্তুত করা— কিন্তু আলোচনা প্রায়শই একই চিন্তায় ফিরে আসছে—সবার আশা, প্রজাতন্ত্র দিবসে আশারিকান্দি কেবল দৃশ্যমানই হবে না, বরং ধুবড়ির একটি জীবন্ত কারুশিল্প সংস্কৃতি হিসেবেও পরিচিতি পাবে। আর কিছুঘন্টা পরেই সেই মুহূর্তটি, যার সাক্ষী থাকতে উৎসুক আশারিকান্দি সহ গোটা দেশ।