অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালিতে রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম এক হাড়হিম করা দৃশ্য—ব্লাড ফলস্ (Blood Falls)। এখানে টেলর গ্লেসিয়ার নামের এক বিশাল হিমবাহের গা বেয়ে টকটকে লাল রঙের জলের ধারা অবিরাম বয়ে যায়, যা দেখলে মনে হয় যেন হিমবাহটি থেকে রক্ত ঝরছে।

প্রথমে বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, লাল কোনও শৈবালের উপস্থিতি হয়তো এমনটা হওয়ার কারণ। কিন্তু আসল সত্য আরও অদ্ভুত। এই হিমবাহের নিচে প্রায় ১৫ লক্ষ বছর ধরে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রাচীন হ্রদ রয়েছে। সেই হ্রদের জল অত্যন্ত লবণাক্ত এবং আয়রনে ভরপুর।
যখন সেই হ্রদের জলের চাপে হিমবাহে ফাটল তৈরি হয় আর সেই ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে সেই জল। যখন তা লক্ষ লক্ষ বছরের পরে প্রথমবারের মতো অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, সাথে সাথেই জলে থাকা আয়রন অক্সিডাইজড হয়ে যায়, অর্থাৎ মরচে পড়ে—আর জলের রঙ গাঢ় লাল হয়ে যায়। অতিরিক্ত লবণ থাকায় চারপাশের বরফের সংস্পর্শ ও সেই জলকে জমতে দেয় না। তাই জলধারা অবিরত বয়ে যায়।

ব্লাড ফলস শুধু একটি দর্শনীয় বিস্ময়ই নয়, এটি বিজ্ঞানীদের জন্য এক অমূল্য গবেষণার ক্ষেত্র।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, কীভাবে চরম প্রতিকূল ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশেও অণু-জীব, টিকে থাকতে পারে। বৃহস্পতির ইউরোপা বা শনির এনসেলাডাসের মতো বরফ ঢাকা উপগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব কেমন হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দেয় এই রহস্যময় ঝর্ণা।
অতএব কোনও এক আসন্ন ছুটির অবকাশকে বেছে নিয়ে এই রহস্যময় স্থান দেখে আসার পরিকল্পনা করাই যায়।


