Monday, June 29, 2026

সপ্তাহের সেরা

আরও দেখুন

অরিজিৎ সিং-সোনু নিগমের সঙ্গে একই মঞ্চে বাজানোর পর এবার নিজের গল্প বলছেন গিটারিস্ট জন পল, আত্মপ্রকাশ ‘কল্পনা’ অ্যালবামে

‘এতদিন অন্য শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চে বাজানোর জন্যই পরিচিত ছিলাম, এবার নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতে চাই,’ বললেন কলকাতার ছেলে জন পল

ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান গিটারিস্ট, সুরকার ও মিউজিক প্রযোজক জন পল। অরিজিৎ সিং, রঘু দীক্ষিত, সোনু নিগম এবং অমিত ত্রিবেদীর মতো দেশের প্রথম সারির শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। তবে এবার তিনি নিজের আলোকবৃত্তেই উঠে আসতে চান। প্রয়াত মায়ের স্মৃতিকে উৎসর্গ করে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘কল্পনা’ নিয়েই শুরু হয়েছে সেই নতুন যাত্রা।

সম্প্রতি কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার পর মিডিয়া-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জন পল জানান, প্রায় ন’বছরের সাধনার ফসল এই অ্যালবাম।

“এটাই আমার প্রথম অ্যালবাম। গত ন’বছর ধরে এর উপর কাজ করছি। এখনও পুরো অ্যালবাম প্রকাশিত হয়নি। ঠিক অর্ধেক গান মুক্তি পেয়েছে, আরও চারটি গান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে,” বলেন তিনি।

স্বাধীনভাবে নির্মিত এই অ্যালবামে ভারতীয় ফিউশন, জ্যাজ, পপ, রক এবং ইলেকট্রনিক— একাধিক আন্তর্জাতিক সঙ্গীতধারার মেলবন্ধন ঘটেছে। পাশাপাশি এতে সহযোগিতা করেছেন শঙ্কর মহাদেবন, রঘু দীক্ষিত, অরিজিৎ সিং এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ড্রামার থমাস ল্যাং-এর মতো শিল্পীরা।

জন পলের কথায়,
“আমার দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঘরানার যে প্রভাব আমি অর্জন করেছি, ‘কল্পনা’ সেই বৈচিত্র্যময় আন্তঃসাংস্কৃতিক সঙ্গীত-সম্ভারেরই এক সংমিশ্রণ।”

কলকাতার অনুষ্ঠানটি প্রচলিত অর্থে কোনও লাইভ গিগ ছিল না। জনের কথায়, এটি ছিল তাঁর অ্যালবামকে কেন্দ্র করে এক সিনেম্যাটিক উপস্থাপনা।

তিনি বলেন,
“অনেক মানুষ আমাকে সমর্থন জানাতে এসেছিলেন। কলকাতার বহু শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীও পাশে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জিশু সেনগুপ্ত, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, সোমলতা আচার্য চৌধুরী, শুভেন চট্টোপাধ্যায়, শিলাজিৎ মজুমদার এবং অঞ্জন দত্ত।”

দেশ-বিদেশে অসংখ্য মঞ্চে পারফর্ম করলেও কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও অটুট। উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে বেড়ে ওঠা জন মনে করেন, বাংলার সংস্কৃতি ও লোকসঙ্গীত তাঁর সঙ্গীতবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

তিনি বলেন,
“আমি সবসময়ই কলকাতার ছেলে। কলকাতা আমার সঙ্গীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার শব্দজগৎ এবং লোকসঙ্গীত আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে।”

‘কল্পনা’ অ্যালবামের একটি গান সরাসরি তাঁর শৈশবের স্মৃতি থেকে অনুপ্রাণিত।

জন জানান,
“অ্যালবামের দ্বিতীয় গানটি পুরোপুরি ঢাকের ছন্দের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে প্রতি শুক্রবার পুজো হত। তখন ঢাকিরা আসতেন। সেই পরিবেশে বড় হয়েছি বলেই স্থানীয় সঙ্গীত আমার রক্তে মিশে গেছে।”

অ্যালবামের নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে গভীর আবেগ। ‘কল্পনা’ হল তাঁর প্রয়াত মায়ের নাম। একই সঙ্গে শব্দটির অর্থও ‘ইমাজিনেশন’ বা কল্পনাশক্তি।

জন বলেন,
“এই অ্যালবামটি আমার প্রয়াত মা কল্পনাকে উৎসর্গ করেছি। ‘কল্পনা’ মানে কেবল তাঁর নাম নয়, কল্পনাশক্তিও। এই অ্যালবামের সঙ্গীত কোনও চাপ বা বাধ্যবাধকতার মধ্যে তৈরি হয়নি। আমার মনে যা এসেছে, সেটাই সুর হয়ে বেরিয়ে এসেছে।”

গত ৯ জুন কলকাতার সফল পারফরম্যান্সের পর এবার দেশজুড়ে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জন পল। ভবিষ্যতে এই ব্যান্ডকে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিয়ে যেতে চান তিনি।

পরিশেষে তিনি বলেন:
“এতদিন মানুষ আমাকে অন্য শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চে বাজানোর জন্যই চিনত। এবার আমি দেখাতে চাই, একজন স্বতন্ত্র শিল্পী হিসেবে আমি কী করতে পারি। আপাতত লক্ষ্য, এই অ্যালবাম নিয়ে সারা ভারত সফর করা। এরপর এই ব্যান্ডকে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসবে নিয়ে যেতে চাই। আমি চাই, আমার দেশের সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে অন্য সঙ্গীতধারার সঙ্গে মিশিয়ে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে।”