অন্ধত্ব দূরীকরণে মহিষাদলকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মডেল ব্লক গড়তে সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর, মহিষাদল ব্লক ও পঞ্চায়েত প্রশাসন এবং হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রম একসঙ্গে নয়া প্রকল্পে কাজ শুরু করছে মে মাস থেকে। জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, চোখের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ছানি অপারেশন বা চশমা দেওয়া
ভোরাই ডেস্ক: অন্ধত্ব নানা রকম। কোনোটার চিকিৎসা হয়, কোনোটার হয় না। কোনোটা এড়ানো যায়। কোনোটা যায় না। অনেকেই আর্থিক সমস্যা বা সচেতনতার অভাবে অন্ধত্বের শিকার হন। তা যাতে না হয়, সে জন্য উদ্যোগী হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। জেলার মহিষাদল ব্লকে এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তারা। অন্ধত্ব দূরীকরণে মহিষাদল ব্লককে মডেল বানানোর এই উদ্যোগে প্রশাসনের সঙ্গী হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রম। জেলা স্বাস্থ্যদফতর, মহিষাদল ব্লক ও পঞ্চায়েত প্রশাসন এবং মিশন আশ্রম একসঙ্গে কাজ শুরু করবে মে মাস থেকে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মহিষাদল ব্লককে ছানিমুক্ত মডেল ব্লক করে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, চোখের সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ছানি অপারেশন বা চশমা দেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। একইসঙ্গে চোখের পরীক্ষার পর প্রয়োজনে সবাইকে চশমা দেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার পাশাপাশি ব্লকের সমস্ত প্রাইমারি ও হাইস্কুলেও পড়ুয়াদের চোখ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। বিভিন্ন শিবিরে চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর যাদের ছানি অপারেশন হবে, তাদের রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের চোখের হাসপাতাল নেত্রালয়ে পাঠানো হবে। এই প্রকল্পের জন্য মে মাসের গোড়াতেই ব্লকের সমস্ত আশাকর্মী এবং স্কুল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা ও প্রাথমিক পরীক্ষার কাজ করবেন। ব্লকের ১১টি পঞ্চায়েতে দু’লক্ষাধিক মানুষকে নিয়ে সমীক্ষা করা হবে। চিহ্নিতকরণের পর যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ৩৯টি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে পরীক্ষা করা হবে।
সমস্ত ছানি বিনা খরচে অপারেশন করা হবে। এজন্য রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের মউ সই হয়েছে।


