শুধু ভারতে নয়, তামাম দুনিয়ার মধ্যে লৌহযুগ প্রথম শুরু হয়েছে আজকের তামিলনাড়ুতে। আদতে পৃথিবীকে লৌহযুগ উপহারই দিয়েছে তামিল-ভূম। লোহা গলিয়ে তা থেকে নানা সামগ্রী নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল তামিলনাড়ুতে। তাও আজ থেকে প্রায় ৫৩০০ বছর আগে। এমনই দাবি করেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন।
কয়েক বছর আগে তুত্থুকুড়ি জেলায় একটি প্রত্নতাত্বিক অভিযান চালানো হয়েছিলো। সেখানে খননের সময় সমাধি থেকে একটি সুপ্রাচীন তরোয়াল পাওয়া যায় । সেই তরোয়ালটি পরীক্ষার জন্য দেশ-বিদেশের একাধিক গবেষণা সংস্থায় পাঠানো হয়। সেই সমস্ত সংস্থার দেওয়া রিপোর্ট থেকেই এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি স্ট্যালিনের। এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিয়ে একটি বইও প্রকাশ করেছে সে রাজ্যের সরকার।
তরোয়াল সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান করতে সেটিকে ফ্লোরিডার বেটা অ্যানালিটিক্স নামে একটি সংস্থায় পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি লখনউয়ের বিরবল সাহানি ইন্সটিটিউট অফ প্যালিয়সায়েন্স এবং আমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবোরেটরিতেও তরোয়ালটি পাঠানো হয়েছিল । আমেরিকার এই গবেষণা সংস্থা কোনও জিনিসের বয়স কত তা জানতে রেডিও-কার্বন প্রযুক্তির সাহায্য নেয় । এর পাশাপাশি লখনউয়ের সংস্থাটি ভূ-তাত্ত্বিক অতীতকে বিশ্লেষণ করে কোনও জিনিস কতটা পুরনো তা খুঁজে বের করে থাকে । আমেদাবাদের সংস্থাও কয়েকটি পদ্ধতিকে সামনে রেখে যাচাইয়ের কাজ করেছে। আরও জানা গিয়েছে, ভারতের দুটি সংস্থাই অপটিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেন্সের সাহায্য নেয়। এই পদ্ধতিতে আলো বা রশ্মির মাধ্যমে একটি পদার্থয় কত শতাংশ লোহা আছে তা খুঁজে বের করা হয়।
বহু পণ্ডিতকে দিয়ে এই গবেষণার রিপোর্ট যাচাই করা হয়েছে। আগামী দিনে যদি এই দাবি সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠে, তাহলে দ্রাবিড় সভ্যতার মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হবে। বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, প্রাচীন অ্যানাতোলিয়ান সভ্যতার হিটাইটরা(১৬০০-১১৭৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) প্রথম লোহা আবিষ্কার ও তার থেকে যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু করে। এই অঞ্চলটি বর্তমান তুরস্কের অন্তর্গত।


